দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেছেন, শুধু রোগ হওয়ার পর চিকিৎসা দেওয়ার পরিবর্তে রোগ প্রতিরোধের ওপর গুরুত্ব দিয়ে স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় সরকার। একই সঙ্গে আধুনিক চিকিৎসাসেবা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই হবে পরিবর্তিত স্বাস্থ্যব্যবস্থার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
রোববার দুপুরে রাজধানীর নভোথিয়েটার অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে স্বাস্থ্যখাতের উদ্ভাবন নিয়ে আয়োজিত একটি প্যানেল আলোচনা শেষে এসব কথা বলেন জুবাইদা রহমান।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিশেষ সুযোগ বা সুবিধা নয়, বরং এটি দেশের প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। সেই বিবেচনা থেকেই এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা তৈরির পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যেখানে শহর ও গ্রামের মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্য কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
জুবাইদা রহমান জানান, স্বাস্থ্য খাতকে নতুনভাবে সাজিয়ে দেশের অর্থনীতিতেও এর বড় ভূমিকা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে এই খাত থেকে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির ৫ শতাংশ আহরণ করা সম্ভব হবে—এমন লক্ষ্য সামনে রেখে কাজ করার কথা জানান তিনি।
তবে শুধু অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নয়, স্বাস্থ্যসেবা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দেশের প্রত্যন্ত এলাকার একজন মানুষ যেন প্রয়োজনের সময় আধুনিক চিকিৎসাসেবা পান, সেই লক্ষ্য সামনে রেখে বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
রোগীর উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানুষ যাতে রোগে আক্রান্ত হওয়ার আগেই তা প্রতিরোধ করতে পারেন, সেই ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান জুবাইদা রহমান। তাঁর মতে, প্রতিকারনির্ভর ব্যবস্থার পরিবর্তে প্রতিরোধনির্ভর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি যেমন কমবে, তেমনি চিকিৎসার ওপর চাপও কমানো সম্ভব হবে।
স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে প্রযুক্তি ও গবেষণার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। জুবাইদা রহমান বলেন, প্রযুক্তির সঙ্গে দেশের গবেষকদের কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলা গেলে বাংলাদেশেই বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য গবেষণা নিয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়। দেশীয় চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের গবেষণায় আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে স্বাস্থ্য গবেষণার বাজেট বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।
ডেঙ্গু প্রতিরোধেও গবেষণাভিত্তিক উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গুর ভ্যাকসিন নিয়ে ট্রায়ালের মাধ্যমে কাজ করার চেষ্টা করছে সরকার। পাশাপাশি দেশে একটি স্বতন্ত্র ভ্যাকসিন রিসার্চ ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে সরকারের পরিকল্পনায় চিকিৎসার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ, গবেষণা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং প্রান্তিক মানুষের কাছে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও প্রতিরোধনির্ভর কাঠামোয় নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।


