দেশের বাজারে আবারও পরিবর্তন এসেছে স্বর্ণের দামে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন তথা বাজুস এবার স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা সাধারণ ক্রেতা এবং স্বর্ণ ব্যবসায়ী উভয়ের জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ খবর। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী প্রতি ভরিতে দুই হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৭ টাকা। এই দাম নির্ধারণের ফলে আরও একবার প্রমাণিত হলো যে দেশের স্বর্ণবাজার এখনো যথেষ্ট অস্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাজুস এই নতুন দামের কথা জানায়। সেদিন সকাল দশটা থেকেই এই দাম কার্যকর হয়ে যায় এবং আজ বৃহস্পতিবারও একই দামে স্বর্ণ বিক্রি চলছে। বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্য হ্রাস পাওয়ার কারণেই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন এই মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি ভরি অর্থাৎ ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৭ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ক্ষেত্রে প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকা। বাজুস আরও জানিয়েছে, পরবর্তী কোনো সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই নির্ধারিত দামই কার্যকর থাকবে, যদিও অলংকারের ডিজাইন অনুযায়ী আলাদা মজুরি প্রযোজ্য হবে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, স্বর্ণালঙ্কার ও রৌপ্যালঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গেই যেহেতু ভ্যাট যুক্ত থাকে, তাই গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করার কোনো সুযোগ নেই।
এর আগে গত ২৭ জুলাই সকালেও একবার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস, তবে সেবার দাম বাড়ানো হয়েছিল। সেদিন প্রতি ভরিতে দুই হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা। একইভাবে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি নির্ধারিত হয়েছিল ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকা। অর্থাৎ মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানেই দাম বাড়া এবং কমার এই ওঠানামা স্বর্ণবাজারের অস্থিরতাকেই স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চলতি ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ৯৬ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৭ দফায় দাম বাড়ানো হয়েছে, ৪৮ দফায় দাম কমানো হয়েছে এবং একবার শুধু ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয় এবং ২৯ বার দাম কমানো হয়। এই তুলনা থেকেই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, চলতি বছরে স্বর্ণের বাজারে মূল্য বৃদ্ধি ও হ্রাসের প্রবণতা প্রায় কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে, যা বিনিয়োগকারী ও সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বাজার পর্যবেক্ষণকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

