ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের প্রথমবারের মতো প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন দলটির আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মো. আবু সাদিককে (সাদিক কায়েম) দলের মেয়রপ্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার দুই সিটিতে তাঁদের প্রার্থী করার কথা জানিয়েছিলেন।
রোববার সকালে রাজধানীর মগবাজারের মধুবাগ মাঠে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দুই প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেন শফিকুর রহমান।
মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির। অন্যদিকে সাদিক কায়েম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি বা ভিপি।
অনুষ্ঠানে সেলিম উদ্দিনকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়রপ্রার্থী হিসেবে তুলে ধরে তাঁর সাম্প্রতিক বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রশংসা করেন জামায়াতের আমির। বিশেষ করে খাল ও আবর্জনা পরিষ্কার এবং জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রপ্রার্থী হিসেবে সাদিক কায়েমকে পরিচয় করিয়ে দিয়েও তাঁর প্রশংসা করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সাদিক কায়েমকে এরই মধ্যে দেশের মানুষ চিনেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ডাকসুতে তাঁর ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে ঢাকা দক্ষিণ সিটিকেও তিনি সুন্দরভাবে সাজাতে পারবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন জামায়াতের আমির।
ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনাও করেন বিরোধীদলীয় নেতা। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারকে জবাবদিহির মধ্যে রাখতে বিরোধী দল সক্রিয় থাকবে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর মশকনিধন কর্মসূচি এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের প্রসঙ্গও আসে তাঁর বক্তব্যে। শফিকুর রহমান জানান, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটির জন্য জামায়াত অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে এবং অর্থ হস্তান্তরের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সম্মতির অপেক্ষায় রয়েছে।
রাড্ডা সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ করেন জামায়াতের আমির। তাঁর দাবি, ঘটনায় একজন সংসদ সদস্যের পদত্যাগই যথেষ্ট নয়; যাঁদের বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে এসব অভিযোগের দায় নির্ধারণের বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার বিষয়।
দেশে হাম পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন শফিকুর রহমান। তাঁর দাবি, হামে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে এবং বর্তমান সরকার সাত মাসে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কী করেছে, তার জবাব দেওয়া প্রয়োজন।
বিমানবন্দরের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারেরও সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর দাবি, বিমানবন্দরের দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রতিবাদ করার কারণেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ বক্তব্য জামায়াত আমিরের রাজনৈতিক দাবি; গ্রেপ্তারের আইনি কারণ ও অভিযোগ নির্ধারণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার বিষয়।
সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্ব এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিমসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


