ঘুমের মধ্যে কিংবা হঠাৎ করে মৃত্যুর ঘটনা অনেকের কাছে অপ্রত্যাশিত মনে হলেও চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এর পেছনে বেশ কিছু গুরুতর শারীরিক কারণ থাকতে পারে। বিশেষ করে হৃদপিণ্ড, মস্তিষ্ক ও শ্বাসপ্রশ্বাসের মারাত্মক জটিলতা আকস্মিক মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
হঠাৎ মৃত্যুর অন্যতম কারণ হার্ট অ্যাটাক ও কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট। হৃদপিণ্ডে রক্ত সরবরাহকারী রক্তনালী বন্ধ হয়ে গেলে হৃদ্পেশিতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছাতে পারে না এবং হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। অন্যদিকে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে হৃদপিণ্ড হঠাৎ কার্যকরভাবে রক্ত পাম্প করা বন্ধ করে দেয়। দ্রুত চিকিৎসা ও প্রয়োজন অনুযায়ী সিপিআর না পেলে পরিস্থিতি প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
আরেকটি গুরুতর কারণ রেস্পিরেটরি ফেইলিউর বা শ্বাসযন্ত্রের ব্যর্থতা। এ অবস্থায় শরীর প্রয়োজনীয় অক্সিজেন গ্রহণ করতে কিংবা যথাযথভাবে কার্বন ডাই-অক্সাইড বের করতে পারে না। ফলে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
পালমোনারি এম্বোলিজমও আকস্মিক মৃত্যুর কারণ হতে পারে। সাধারণত শরীরের অন্য কোথাও তৈরি হওয়া রক্ত জমাট ফুসফুসের রক্তনালীতে গিয়ে আটকে গেলে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। বড় ধরনের পালমোনারি এম্বোলিজম হলে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া কিংবা গুরুতর ক্ষেত্রে মৃত্যু হতে পারে।
স্ট্রোকও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা রক্তনালী ফেটে রক্তক্ষরণ হলে স্ট্রোক হতে পারে। বিশেষ করে গুরুতর হেমোরেজিক স্ট্রোক দ্রুত প্রাণঘাতী পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
তবে অনেক ক্ষেত্রেই শরীর আগে কিছু সতর্কসংকেত দেয়। বুকের মাঝখানে চাপ বা ব্যথা, হঠাৎ শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘাম, বমি ভাব, অস্বাভাবিক দুর্বলতা কিংবা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া হৃদ্যন্ত্র বা শ্বাসযন্ত্রের গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
হঠাৎ শ্বাসকষ্টের সঙ্গে শ্বাস নেওয়ার সময় বেড়ে যাওয়া বুকের ব্যথা পালমোনারি এম্বোলিজমের সতর্কসংকেত হতে পারে। অন্যদিকে আচমকা মুখ বা শরীরের এক পাশ অবশ হয়ে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া, দৃষ্টিতে সমস্যা, ভারসাম্য হারানো কিংবা হঠাৎ অত্যন্ত তীব্র মাথাব্যথা স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে।
এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে অপেক্ষা না করে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম, সুষম খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার এবং ডায়াবেটিসসহ বিদ্যমান শারীরিক সমস্যার যথাযথ চিকিৎসা হঠাৎ গুরুতর জটিলতার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
অর্থাৎ ঘুমের মধ্যে বা হঠাৎ মৃত্যু সব সময় আগে থেকে অনুমান করা সম্ভব না হলেও শরীরের অস্বাভাবিক সতর্কসংকেত অবহেলা না করা এবং সময়মতো চিকিৎসা নেওয়াই ঝুঁকি কমানোর গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

