নারী এশিয়া কাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে শ্রীলঙ্কা। পাকিস্তানের দেওয়া ১৩১ রানের লক্ষ্য ৮ বল হাতে রেখেই পেরিয়ে যায় লঙ্কানরা। আগামী রোববার শিরোপার লড়াইয়ে ভারতের মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা।
শুক্রবার দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে পাকিস্তান। শুরুটা ভালো হয়নি তাদের। দলীয় ৫২ রানের মধ্যেই ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে পাকিস্তান। সেই বিপদে দলের হাল ধরেন অধিনায়ক ফাতিমা সানা।
৩৬ বলে চারটি চার ও দুটি ছক্কায় অপরাজিত ৪৭ রান করেন ফাতিমা। তাঁর দায়িত্বশীল ইনিংসে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৩০ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তান।
১৩১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শ্রীলঙ্কাও শুরুতে বড় ধাক্কা খায়। মাত্র ৩৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কায় পড়ে তারা। বল হাতে পাকিস্তানের অধিনায়ক ফাতিমা সানা শুরুতেই তুলে নেন দুটি উইকেট। তখন ভারত-পাকিস্তান ফাইনালের সম্ভাবনাই উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল।
কিন্তু সেখান থেকেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন হর্ষিতা সমরবিক্রমা ও কবিশা দিলহারি। পঞ্চম উইকেটে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ জুটিতে চাপ কাটিয়ে ম্যাচে ফিরে আসে শ্রীলঙ্কা। হর্ষিতা ৩১ বলে ৩৬ এবং কবিশা ৩৩ বলে ৩৩ রান করেন।
দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে ফাতিমা দুজনকেই আউট করে পাকিস্তানকে আবারও লড়াইয়ে ফেরানোর চেষ্টা করেন। তবে ততক্ষণে শ্রীলঙ্কার জয়ের ভিত অনেকটাই তৈরি হয়ে যায়।
শেষ দিকে নীলাক্সিকা সিলভা ও কৌশিনী নুত্যাঙ্গনা আর কোনো বিপদ হতে দেননি। নীলাক্সিকা ১৮ ও কৌশিনী ১০ রানে অপরাজিত থেকে ১৮ দশমিক ৪ ওভারেই শ্রীলঙ্কাকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন।
হেরে গেলেও ম্যাচে পাকিস্তানের সেরা পারফরমার ছিলেন ফাতিমা সানা। ব্যাট হাতে অপরাজিত ৪৭ রানের পাশাপাশি বল হাতে ৪ ওভারে মাত্র ১০ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট। দুর্দান্ত অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের সুবাদে ম্যাচসেরার পুরস্কারও পান তিনি।
এই জয়ে পাকিস্তানের ভারত-পাকিস্তান ফাইনালের স্বপ্ন ভেঙে দিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে জায়গা করে নিল শ্রীলঙ্কা। আগামী রোববার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ ভারত।

