দেশে চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ–সংকট কাটাতে আগামীকাল মঙ্গলবার রাত থেকেই উদ্যোগ শুরু হবে। শিল্পকারখানায় গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ সাম্প্রতিক সংকটের আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক ফজলুল হক সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
ফজলুল হক বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাস ও বিদ্যুতের যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে শিল্পকারখানায় সরবরাহ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া হবে বলে প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আগামীকাল রাত থেকেই আমাদের নতুন করে যে সংকট তৈরি হয়েছে, এর আগের যে অবস্থায় আমরা ছিলাম, গ্যাস-বিদ্যুতের ওই অবস্থায় ফিরে যেতে পারব। এটা আজ অনুষ্ঠিত বৈঠকের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি, সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর।’
তবে ‘আগের অবস্থা’ বলতে কোন সময়কে বোঝানো হচ্ছে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে এফবিসিসিআই প্রশাসক জানান, আগস্ট মাসে গ্যাস ও বিদ্যুৎ–সংকট ঘনীভূত হওয়ার আগের পরিস্থিতির কথা বলা হয়েছে।
ফজলুল হক বলেন, জ্বালানিসংকটের প্রভাব শুধু ব্যবসা-বাণিজ্য বা শিল্পকারখানায় সীমাবদ্ধ নেই। সমাজের প্রায় প্রতিটি স্তরের মানুষই কমবেশি এর প্রভাব অনুভব করছেন। এ অবস্থায় মঙ্গলবার রাত থেকেই গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রবাহ আগের পর্যায়ে ফেরানোর আশ্বাস ব্যবসায়ীদের জন্য বড় স্বস্তির খবর।
বৈঠকে বিজিএমইএ, মেট্রোপলিটন চেম্বার, আইসিসিবি, ঢাকা চেম্বার, বিটিএমএ ও বিকেএমইএসহ মোট ২১টি ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। প্রায় তিন ঘণ্টার আলোচনায় দেশের কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদের পরিস্থিতি গুরুত্ব পায়।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানান, বিদ্যুৎ–সংকট মোকাবিলায় সরকার তাৎক্ষণিক ব্যবস্থার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েও কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে পাঁচটি টার্মিনাল নির্মাণসহ বেশ কয়েকটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছরে পুঞ্জীভূত হওয়া সংকট অল্প সময়ের মধ্যে পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়। তাই দীর্ঘমেয়াদে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও কয়লাকে সমন্বয় করে একটি উৎপাদনমুখী জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও জানান মাহদী আমিন। তাঁর মতে, ভবিষ্যতে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের উৎস আরও বৈচিত্র্যময় করা হবে, যাতে একটি নির্দিষ্ট জ্বালানি উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল থাকতে না হয়।
সরকারের লক্ষ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জনের পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তবে ব্যবসায়ীদের জন্য আপাতত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হচ্ছে—আগস্টে সংকট তীব্র হওয়ার আগের পর্যায়ে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ফিরিয়ে নিতে মঙ্গলবার রাত থেকেই উদ্যোগ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

