বলিউডে তাঁর যাত্রা শুরু হয়েছিল নতুন মুখ হিসেবে। করণ জোহরের ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার’ দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেকের ১৪ বছর পর এবার অন্য ভূমিকায় আলিয়া ভাট। প্রযোজক হিসেবে চার নতুন অভিনয়শিল্পী ও একজন নবাগত পরিচালককে দর্শকের সামনে নিয়ে আসছেন তিনি। তাঁর নতুন প্রযোজনার নাম ‘ডোন্ট বি শাই’।
গত শুক্রবার মুম্বাইয়ে সিনেমাটির ট্রেলার প্রকাশ অনুষ্ঠানে বোন শাহীন ভাটের সঙ্গে উপস্থিত হন আলিয়া। নিজের অভিনয়জীবনের শুরুর দিন থেকে শুরু করে প্রযোজক হিসেবে নতুন অভিজ্ঞতা, জেন-জি প্রজন্মের জীবনধারা এবং দুই বোনের ছোটবেলার খুনসুটি—বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে তাঁদের কথায়।
মুম্বাইয়ের একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আয়োজিত ট্রেলার প্রকাশ অনুষ্ঠানটিকে সাজানো হয়েছিল কলেজ ফেস্টের আদলে। ক্যান্ডি ফ্লস, গোলা ও নুডলস থেকে শুরু করে প্রসাধনীর বিভিন্ন স্টল ছিল সেখানে। পুরো আয়োজনেই রাখা হয়েছিল তারুণ্যনির্ভর আবহ।
মঞ্চে উঠে আলিয়া জানান, মুহূর্তটি তাঁর জন্য বিশেষ আবেগের। ১৪ বছর আগে একজন অভিনেত্রী হিসেবে তাঁর নিজের অভিষেক হয়েছিল। আর এত বছর পর প্রযোজক হিসেবে চার নতুন অভিনয়শিল্পী ও একজন নতুন পরিচালককে পরিচয় করিয়ে দিতে গিয়ে তিনি তাঁদের চেয়েও বেশি নার্ভাস অনুভব করছেন।
আলিয়ার ভাষায়, ‘চৌদ্দ বছর আগে একজন অভিনেত্রী হিসেবে আমার অভিষেক হয়েছিল। আর চৌদ্দ বছর পর আজ চারজন নতুন অভিনেতা এবং একজন নবাগত পরিচালককে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি। সত্যি বলতে, এই মুহূর্তে ওদের থেকেও আমি বেশি নার্ভাস।’
অভিনয় এবং প্রযোজনার অভিজ্ঞতার পার্থক্যের কথাও তুলে ধরেন তিনি। আলিয়া জানান, ক্যামেরার সামনে অভিনয় করা তাঁর ভালোবাসার জায়গা হলেও প্রযোজক হিসেবে একটি গল্পকে একেবারে শুরু থেকে গড়ে তোলার মধ্যে অন্য ধরনের আনন্দ রয়েছে। ‘ডোন্ট বি শাই’-এর গল্প ও সিনেমার জগৎ তৈরির একেবারে প্রাথমিক পর্যায় থেকেই তিনি ও তাঁর দল যুক্ত ছিলেন।
নতুন প্রজন্মের কলেজজীবন, প্রেম, সম্পর্ক এবং বিচ্ছেদের বিভিন্ন অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে ‘ডোন্ট বি শাই’। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন নবাগত পরিচালক শ্রীতি মুখার্জি।
আলিয়া জানান, শ্রীতিই প্রথম তাঁদের কাছে এ ধরনের সিনেমা নির্মাণের ধারণা নিয়ে এসেছিলেন। গল্পটি পছন্দ হওয়ার পর তাঁরা একসঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর সিনেমাটি তৈরি করতে প্রায় দুই বছর সময় লেগেছে।
ছবিটির সঙ্গে অ্যামাজন যুক্ত হওয়ার ঘটনাও ট্রেলার প্রকাশ অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন আলিয়া। তিনি জানান, এক শুক্রবার সিনেমাটির প্রয়োজনীয় উপকরণ অ্যামাজনের কাছে পাঠানো হয়েছিল। পরদিন সকালেই অ্যামাজনের নিখিল মাদোক তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সিনেমাটির ওপর আস্থা রাখার জন্য অ্যামাজনকে ধন্যবাদ জানান অভিনেত্রী।
‘ডোন্ট বি শাই’-এর গল্পকে নিজের হৃদয়ের খুব কাছের বলেও উল্লেখ করেন আলিয়া। তাঁর মতে, বড় হয়ে ওঠার সময় মানুষ যে প্রেম, সম্পর্ক, বন্ধুত্ব, বিচ্ছেদ ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যায়, সেই অভিজ্ঞতার সঙ্গে দর্শকেরা সিনেমাটির যোগসূত্র খুঁজে পেতে পারেন।
অনুষ্ঠানে নিজের জীবনদর্শনের কথাও বলেন আলিয়া। তাঁর মতে, জীবন সব সময় মানুষের পরিকল্পনা অনুযায়ী চলে না। কখনো পরিকল্পনার বাইরে ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনাই পরবর্তী সময়ে জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্ত হয়ে উঠতে পারে।
বোন শাহীন ভাটও একই প্রসঙ্গে বলেন, জীবন অনেকটাই এলোমেলো ও বিশৃঙ্খল। বড় হয়ে ওঠার অর্থ সবকিছুর উত্তর আগে থেকেই জেনে যাওয়া নয়; বরং নিজের পরিচয় ও অনুভূতি প্রকাশ করতে ভয় না পাওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ।
দুই বোনের কথোপকথনে উঠে আসে জেন-জি প্রজন্মের মধ্যে প্রচলিত ‘রেজবেইট’ শব্দটিও। সাধারণভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে এমন বক্তব্য বা বিষয় ছড়িয়ে দেওয়া, যা অন্য মানুষকে রাগিয়ে বা উত্তেজিত করে প্রতিক্রিয়া তৈরি করে, তাকে ‘রেজবেইট’ বলা হয়।
শব্দটির অর্থ বোঝাতে গিয়ে ছোটবেলার মজার অভিজ্ঞতা শোনান আলিয়া। তিনি বলেন, ছোটবেলায় শাহীন তাঁকে বলতেন, তিনি নাকি পার্লে-জি বিস্কুটের সঙ্গে বিনা মূল্যে এসেছিলেন এবং আসলে তাঁদের মা-বাবার সন্তান নন। মাত্র চার বছর বয়সে বোনের এসব কথা বিশ্বাস করে ফেলতেন আলিয়া। মজা করে সেই অভিজ্ঞতাকেই নিজের ছোটবেলার ‘রেজবেইট’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অভিনেত্রী হিসেবে বলিউডে পথচলা শুরুর ১৪ বছর পর তাই ‘ডোন্ট বি শাই’ আলিয়ার ক্যারিয়ারে অন্য ধরনের একটি অধ্যায়। এবার পর্দার সামনে নিজে নতুন মুখ হয়ে নয়, বরং পর্দার পেছনে থেকে নতুন অভিনয়শিল্পী ও নির্মাতাকে দর্শকের সামনে তুলে আনছেন তিনি।

