দেশে পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে অর্থায়নের সুযোগ বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকের দুটি পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে যুক্ত হয়েছে পূবালী ব্যাংক। স্কিম দুটির সম্মিলিত তহবিলের আকার দুই হাজার কোটি টাকা। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে পৃথক দুটি অংশগ্রহণ চুক্তি সই করেছে বেসরকারি খাতের ব্যাংকটি।
স্কিম দুটি হলো ‘গ্রিন ফ্যাক্টরি বিল্ডিং এবং গ্রিন ইন্ডাস্ট্রি খাতে পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’ এবং ‘তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি খাতে উন্নয়নকল্পে পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’। প্রতিটি স্কিমের জন্য এক হাজার কোটি টাকা করে তহবিল রয়েছে।
পূবালী ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্টের আওতায় পরিচালিত এই দুই স্কিমে অংশ নিতে সম্প্রতি পৃথক দুটি পার্টিসিপেশন অ্যাগ্রিমেন্ট বা অংশগ্রহণ চুক্তি করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্টের পরিচালক এ কে এম নূরুন্নবী এবং পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন।
অনুষ্ঠানে পূবালী ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইছা, ব্যাংকটির আরএমজি ডিভিশনের প্রধান ও মহাব্যবস্থাপক মো. নজরুল ইসলাম সরকারসহ বাংলাদেশ ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
গ্রিন ফ্যাক্টরি ও গ্রিন ইন্ডাস্ট্রিবিষয়ক পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের লক্ষ্য পরিবেশবান্ধব ও টেকসই শিল্পায়নে অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করা। এই স্কিমে পূবালী ব্যাংকের অংশগ্রহণের ফলে সংশ্লিষ্ট যোগ্য প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পে অর্থায়নের সুযোগ আরও বাড়বে বলে আশা করছে ব্যাংকটি।
অন্যদিকে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে গঠিত পুনঃঅর্থায়ন স্কিমটি প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির বিকাশে অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। পূবালী ব্যাংক এই স্কিমে যুক্ত হওয়ায় তথ্যপ্রযুক্তি খাতের যোগ্য উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠানে অর্থায়নের ক্ষেত্রে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করার সুযোগ পাবে।
ব্যাংকটির কর্মকর্তারা বলছেন, দুটি স্কিমে অংশগ্রহণের ফলে পরিবেশবান্ধব শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তি—দুই গুরুত্বপূর্ণ খাতে অর্থায়নের পরিধি বাড়াতে পূবালী ব্যাংক আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।
তাঁদের প্রত্যাশা, এ ধরনের অর্থায়ন নতুন শিল্প ও উদ্যোগ বিকাশের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
টেকসই শিল্পায়নের ক্ষেত্রে উৎপাদনের পাশাপাশি পরিবেশের ওপর প্রভাব কমানোর বিষয়টি ক্রমেই গুরুত্ব পাচ্ছে। একইভাবে ডিজিটাল অর্থনীতির প্রসারের সঙ্গে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের প্রয়োজনও বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই দুই পুনঃঅর্থায়ন স্কিম সেই দুই খাতে অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যেই পরিচালিত হচ্ছে।
এখন পূবালী ব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে স্কিম দুটিতে যুক্ত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট নীতিমালা ও যোগ্যতার আওতায় গ্রিন ফ্যাক্টরি, পরিবেশবান্ধব শিল্প এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি খাতে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা দেওয়ার সুযোগ পাবে।

