রাজধানীর গুলশানে ককটেল বিস্ফোরণ ও নাশকতার অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় গ্রেপ্তার ১৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। পুলিশ তাঁদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছিল।
রিমান্ডে যাওয়া ব্যক্তিদের আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী হিসেবে মামলার নথিতে উল্লেখ করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন নিরব খান, মো. সাইফুল ইসলাম, মো. জুয়েল সিকদার, মো. সাহেদ, শান্ত শেখ, মো. হারুন মাইজভান্ডারী, খালেদ মাহমুদ ফয়সল, মো. সফিকুর রহমান, বিল্লাল গাজী, ইসমাইল সিরাজী, মো. আরিফুর রহমান দিপু, মো. ইদ্রিসুল আলম, জয়নাল আবেদীন মামুন, জয়ন্ত কুমার বাড়ৈ এবং মো. মোজাম্মেল হক।
মামলার এজাহারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১১ সেপ্টেম্বর বেলা পৌনে ১২টার দিকে গুলশান এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা একটি মিছিল বের করেন। পুলিশের অভিযোগ, মিছিল থেকে সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। পুলিশ মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করতে গেলে তাদের লক্ষ্য করেও ককটেল নিক্ষেপ করা হয় বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে। এগুলো মামলার অভিযোগ; আদালতে এখনো প্রমাণিত হয়নি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাবার বুলেট ছোড়া হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করা হয়। পরে গুলশান থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়। মামলায় ১১৮ জনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৮০ থেকে ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বুধবার গ্রেপ্তার ১৫ জনকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপপরিদর্শক মো. রুহুল আমিন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য প্রত্যেককে সাত দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন তিনি। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং তাঁদের নিয়ে অভিযান চালালে ঘটনার পরিকল্পনাকারী, অর্থের জোগানদাতা ও অন্য জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যেতে পারে। আদালত শেষ পর্যন্ত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল করে জামিন দেওয়ার আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ সেই আবেদনের বিরোধিতা করে। দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত জামিনের পরিবর্তে তিন দিনের পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার সমতুল্য নয়; মামলার অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
এই মামলায় এর আগেও একাধিক ব্যক্তিকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। ১২ সেপ্টেম্বর একই মামলায় গ্রেপ্তার ২৪ জনকে ১০ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছিল। পরে রিমান্ড শেষে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। এছাড়া ১৬ সেপ্টেম্বর আরও দুই আসামিকে সাত দিনের রিমান্ড দেওয়া হয়।
ফলে ১১ সেপ্টেম্বরের গুলশানের ঘটনা ঘিরে মামলার তদন্ত এখনো চলমান। নতুন করে ১৫ জনকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার পর তদন্তকারী সংস্থা তাঁদের কাছ থেকে ঘটনার পরিকল্পনা, অর্থায়ন এবং অন্য অভিযুক্তদের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করবে বলে রিমান্ড আবেদনে জানিয়েছে। তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারিত হবে তদন্ত ও আদালতের পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ায়।

