শক্তিশালী মার্কিন ডলারের চাপে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম প্রায় ১ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সেপ্টেম্বরের বৈঠকের কার্যবিবরণীর দিকে। ভবিষ্যতে সুদের হার বাড়ানোর বিষয়ে নীতিনির্ধারকদের অবস্থান কী, সেই ইঙ্গিত পেতেই কার্যবিবরণীর অপেক্ষায় রয়েছে বাজার।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টা ৫ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম ০ দশমিক ৯৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১২২ ডলার ৭৩ সেন্টে নেমে আসে। একই সময়ে ডিসেম্বর সরবরাহের মার্কিন গোল্ড ফিউচারের দাম ০ দশমিক ৯১ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ১৪৯ ডলারে।
এদিন মার্কিন ডলার সূচক ০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। ডলারের দাম শক্তিশালী হলে অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারী ক্রেতাদের কাছে ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ তুলনামূলক ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের চাহিদা ও দামের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।
অ্যাক্টিভট্রেডসের পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী রিকার্ডো ইভানজেলিস্তার মতে, ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির সর্বশেষ বৈঠকের কার্যবিবরণী প্রকাশের আগে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্ক অবস্থান দেখা যাচ্ছে। সুদের হার বাড়ানোর পক্ষে নীতিনির্ধারকদের সমর্থন কতটা রয়েছে, সে বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা না পাওয়া পর্যন্ত স্বর্ণে বড় বিনিয়োগে অনীহা থাকতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক দুর্বল কর্মসংস্থান তথ্যের পর বাজারে ধারণা তৈরি হয়েছে, অক্টোবরের বৈঠকে ফেড সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে। তবে ডিসেম্বরের বৈঠকে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে। সিএমইর ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী, ডিসেম্বরের বৈঠকে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ৮৬ শতাংশ।
কানসাস সিটি ফেডের প্রেসিডেন্ট জেফ শ্মিড মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনতে সুদের হার আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। অন্যদিকে সান ফ্রান্সিসকো ফেডের প্রেসিডেন্ট মেরি ডালি বলেছেন, মূল্যস্ফীতির পেছনের কারণগুলো সাময়িকভাবে কমছে নাকি স্থায়ী হচ্ছে, তার ওপর ভবিষ্যতের সুদহারসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে।
সাধারণত সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের ওপর চাপ তৈরি হয়। কারণ স্বর্ণ থেকে সরাসরি কোনো সুদ বা নিয়মিত আয় পাওয়া যায় না। ফলে উচ্চ সুদের পরিবেশে সুদ দেয় এমন বিনিয়োগের তুলনায় স্বর্ণের আকর্ষণ কমতে পারে।
তবে স্বর্ণের দাম আরও কমে যাওয়ার পথে কিছু বিষয় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন ইভানজেলিস্তা। ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, সরকারি ঋণের উচ্চমাত্রা, মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ এবং বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বর্ণ কেনা বাজারকে সমর্থন দিতে পারে।
চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সেপ্টেম্বরে স্বর্ণ কেনার পরিমাণ বাড়িয়েছে। এর মাধ্যমে টানা ২৩ মাস স্বর্ণ কেনার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ জ্বালানি মূল্য, রেকর্ড সরকারি ঋণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিনিয়োগের সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতি চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন।
ইতালিতে অনুষ্ঠিত লন্ডন বুলিয়ন মার্কেট অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ১২ মাসে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৫ হাজার ১৩ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে।
শুধু স্বর্ণ নয়, বুধবার অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। স্পট সিলভারের দাম ২ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬০ দশমিক ৩৬৩৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনাম ৩ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৫০ ডলার ৪৫ সেন্ট এবং প্যালাডিয়াম ২ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ১৪০ ডলার ৮৯ সেন্টে নেমেছে।



