ডেস্ক রিপোর্ট | নাহিদ হাসান
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় রোববার (২৫ অক্টোবর) কট্টর ডানপন্থী প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারোকে হারিয়ে জয় পেয়েছেন বামপন্থী নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। এই জয়ে ঐতিহাসিকভাবে চতুর্থবারের মতো দেশটির প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন তিনি।
প্রায় ৯৯ শতাংশ ভোট গণনা শেষে ৮০ বছর বয়সী লুলা পেয়েছেন ৫১.৭৫ শতাংশ ভোট, আর ৪৫ বছর বয়সী ফ্লাভিও পেয়েছেন ৪৮.২৫ শতাংশ। অথচ অক্টোবরের শুরুতে প্রথম দফায় লুলা প্রায় ২২ লাখ ভোটে পিছিয়ে ছিলেন; দ্বিতীয় দফায় তিনি জিতেছেন প্রায় ৪৩ লাখ ভোটের ব্যবধানে। আশির দশকে ব্রাজিলে গণতন্ত্র ফেরার পর প্রথম দফায় দ্বিতীয় হওয়া কোনো প্রার্থী এর আগে কখনো দ্বিতীয় দফায় জিততে পারেননি। সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে ফিরিয়ে আনাকেই সবচেয়ে বড় সুযোগ হিসেবে দেখছিলেন লুলার মিত্ররা। প্রথম দফায় ভোট না দেওয়ার হার ছিল রেকর্ড ২১.০৮ শতাংশ, যা দ্বিতীয় দফায় কমে ১৯.২১ শতাংশে নেমে আসে।
ফল নিশ্চিত হওয়ার পর সাও পাওলোর রাস্তায় উল্লাসে মেতে ওঠেন লুলার সমর্থকেরা; শহরের একটি হোটেলে বসেই ভোট গণনা দেখছিলেন তিনি। ভোটের আগের দিন শনিবার রিও ডি জেনিরোর কোপাকাবানা সৈকতে তাঁর সমর্থনে ১০ লাখের বেশি মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। অন্যদিকে রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় বলসোনারো শিবিরে ছড়িয়ে পড়ে হতাশা। ফ্লাভিওর বাবা, সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের দায়ে ২৭ বছরের সাজা ভোগ করছেন; ছেলে জিতলে মুক্তি মিলবে বলে আশা করেছিলেন তিনি। ফলটি বলসোনারো পরিবারের মিত্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্যও বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ৮১ বছরে পা দেবেন লুলা। সত্তরের দশকের শেষে সাও পাওলোর শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকনেতা হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু। ১৯৮৯, ১৯৯৪ ও ১৯৯৮ সালে টানা তিনবার হারের পর ২০০২ সালে প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন তিনি, শ্রমিক শ্রেণি থেকে উঠে আসা দেশটির প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে। টানা দুই মেয়াদ শেষে সরে দাঁড়ানোর পর ২০২২ সালে জইর বলসোনারোকে হারিয়ে আবার ক্ষমতায় ফেরেন এই বামপন্থী নেতা।

