জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনানসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।
একই মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগ সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ এবং সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলকে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ২০২৪ সালের জুলাই গণআন্দোলনের সময় সাদ্দাম হোসেন ও শেখ ওয়ালি আসিফ ইনানের অধীন ও নিয়ন্ত্রণাধীন ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের সদস্যরা নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর ব্যাপক ও পদ্ধতিগত হামলা চালান। এসব ঘটনায় হত্যা, হত্যাচেষ্টা, নির্যাতন ও অন্যান্য অমানবিক আচরণের অভিযোগ আনা হয় তাঁদের বিরুদ্ধে।
প্রসিকিউশন আরও দাবি করে, এসব অপরাধ সংঘটনে আসামিদের নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা, সহায়তা ও সম্পৃক্ততা ছিল এবং অপরাধ প্রতিরোধেও তাঁরা ব্যর্থ হয়েছেন।
মামলাটির তদন্ত শুরু হয় ২০২৫ সালের ১৮ জুন। তদন্ত শেষে ওই বছরের ৭ ডিসেম্বর চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। এরপর ১৮ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়।
চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৯ জন সাক্ষ্য দেন। ২ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ৪ আগস্ট যুক্তিতর্ক শুরু হয় এবং ১৭ আগস্ট তা শেষ হলে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।
শেষ পর্যন্ত ১৫ সেপ্টেম্বর ঘোষিত রায়ে সাত আসামিকেই মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।



