বিয়ে করেননি বলে প্রায়ই শুনতে হয়—‘কবে বিয়ে করছেন?’ পরিবার, আত্মীয়স্বজন কিংবা পরিচিতদের কাছ থেকে একই প্রশ্ন শুনতে শুনতে অনেকেই হয়তো বিরক্ত। তাঁদের জন্যই বিশেষ একটি উপলক্ষ হতে পারে অবিবাহিত দিবস। ২৬ সেপ্টেম্বর পালিত হয় দিনটি। নিজের মতো করে জীবন কাটানো, নিজের সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেওয়া এবং সঙ্গী না থাকার বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখাই এই দিবসের মূল বার্তা।
একসময় বিয়ে না করাকে সমাজের অনেকেই অস্বাভাবিক কিংবা অসম্পূর্ণ জীবন হিসেবে দেখতেন। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বয়সের পর বিয়ে নিয়ে পারিবারিক ও সামাজিক চাপ তুলনামূলক বেশি দেখা যেত। তবে সময়ের সঙ্গে এই ধারণায় পরিবর্তন এসেছে।
এখন অনেক নারী-পুরুষ নিজের ক্যারিয়ার, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, ভ্রমণ, স্বপ্ন কিংবা নিজস্ব পছন্দকে প্রাধান্য দিয়ে অবিবাহিত জীবন বেছে নিচ্ছেন। আবার কেউ হয়তো বিয়ের জন্য এখনো প্রস্তুত নন। ফলে বিয়ে না করার পেছনে সবার কারণও এক নয়।
অবিবাহিত মানেই একা কিংবা অসুখী—এমন ধারণাও ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে। কেউ সম্পর্কের জন্য প্রস্তুত নন, কেউ নিজের লক্ষ্য অর্জনে ব্যস্ত, আবার কেউ একাই নিজের জীবন উপভোগ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
যেভাবে শুরু অবিবাহিত দিবসের
অবিবাহিতদের জীবনকে আলাদাভাবে উদ্যাপনের ধারণাটি কয়েক দশকের পুরোনো। ১৯৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে ‘বাকআই সিঙ্গেলস কাউন্সিল’ জাতীয় অবিবাহিত সপ্তাহ চালুর উদ্যোগ নেয়।
পরে ২০১৪ সালে ১১ জানুয়ারি জাতীয় অবিবাহিত দিবস পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে সেপ্টেম্বরের তৃতীয় পূর্ণ সপ্তাহকে অবিবাহিত সপ্তাহ এবং সেই সপ্তাহের শেষ শনিবারকে জাতীয় অবিবাহিত দিবস হিসেবে উদ্যাপনের প্রচলন তৈরি হয়।
নিজের সময় নিজের মতো কাটানোর সুযোগ
অবিবাহিত জীবনের অন্যতম সুবিধা হলো নিজের সময় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা। কোথায় যাবেন, কী করবেন, কখন ঘুমাবেন কিংবা অবসর সময় কীভাবে কাটাবেন—এসব ক্ষেত্রে অন্য কারও সঙ্গে সমন্বয় করার প্রয়োজন তুলনামূলক কম থাকে।
নিজের যত্ন নেওয়া, নিয়মিত শরীরচর্চা, পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো কিংবা নতুন কোনো শখ গড়ে তোলার সুযোগও পাওয়া যায়। আর একা ঘুমালে সঙ্গীর নাক ডাকার কারণে রাতের ঘুম নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও নেই—এটিও অবিবাহিত জীবনের মজার একটি সুবিধা হিসেবে দেখা যেতে পারে।
অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেও নিজের পছন্দকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সুযোগ থাকে। নিজের উপার্জন কোথায় খরচ করবেন, কতটা সঞ্চয় করবেন কিংবা ভ্রমণের জন্য কতটা রাখবেন—সেসব সিদ্ধান্ত নিজের প্রয়োজন ও পরিকল্পনা অনুযায়ী নেওয়া যায়।
যেভাবে কাটাতে পারেন দিনটি
অবিবাহিত দিবস উদ্যাপন মানেই একা ঘরে বসে থাকা নয়। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া, পছন্দের রেস্তোরাঁয় খেতে যাওয়া, সিনেমা দেখা কিংবা দীর্ঘদিন ধরে ঘুরতে যাওয়ার ইচ্ছা থাকা কোনো জায়গায় চলে যাওয়ার মধ্য দিয়েও দিনটি উপভোগ করা যায়।
যাঁরা একা ভ্রমণ পছন্দ করেন, তাঁরা ছোট কোনো ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে পারেন। আবার একা ভ্রমণে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করলে বন্ধু কিংবা কোনো ভ্রমণ দলের সঙ্গে বেরিয়ে পড়া যেতে পারে।
দিনটি অন্য মানুষের জন্য কিছু করার মাধ্যমেও অর্থবহ হয়ে উঠতে পারে। স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে অংশ নেওয়া, গাছ লাগানো কিংবা কোনো সামাজিক উদ্যোগে সময় দেওয়াও হতে পারে উদ্যাপনের ভিন্ন উপায়।
বিয়ে করা কিংবা না করা শেষ পর্যন্ত প্রত্যেক মানুষের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। জীবনের সুখ বা সাফল্য নির্ধারণের একমাত্র মাপকাঠিও বিয়ে নয়। তাই অবিবাহিত দিবসের বার্তাটিও সহজ—একা থাকা মানেই নিঃসঙ্গ থাকা নয়, নিজের পছন্দের জীবন নিজের মতো করে উপভোগ করাও আনন্দের।



