ফেরদৌসী আহমেদ (মিষ্টি)-এর পর ইশরাক হোসেন—আড়াই সপ্তাহের ব্যবধানে দুজন প্রতিনিধিকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়ে সরকার ও বিএনপি দলীয় রাজনীতিতে কঠোর বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ক্ষমতার দাপট প্রদর্শন, দায়িত্বের সীমা লঙ্ঘন এবং ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের দায় সরকার বা দলের ওপর পড়ার সুযোগ না দেওয়াই এই কঠোর পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য বলে মনে করছেন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা।
সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা ও ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় নাম আসায় সংসদ সদস্য পদ ছাড়তে হয় ফেরদৌসী আহমেদকে। অন্যদিকে, পুরান ঢাকায় নিজ সংসদীয় আসনে অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নেমে বিতর্ক সৃষ্টি করায় মন্ত্রিসভা থেকে সরে যেতে বাধ্য হন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। নিজ উদ্যোগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বাইপাস করে অস্ত্র প্রদর্শন ও জনসমক্ষে দৃশ্যমান অভিযানের পক্ষে যুক্তি দিলেও তা দায়িত্বের পরিপন্থী ও সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলার সামিল বলেই মূল্যায়ন করা হয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ মন্ত্রিসভার একাধিক কর্মকর্তা জানান, শান্তিশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারের বাইরে যাওয়ার সুযোগ কারও নেই—প্রধানমন্ত্রী এই বার্তাটিই স্পষ্ট করেছেন। সাদামাটা জীবনযাপন ও নিয়ন্ত্রিত আচরণের মাধ্যমে সরকার ও দলের মর্যাদা বজায় রাখার বিষয়ে এবার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে শীর্ষ নেতৃত্ব।
গভর্নেন্স ও দায়িত্বের সীমানা নিশ্চিত করার এমন পদক্ষেপকে ভবিষ্যতে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে কার্যকর নির্দেশক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

