দেশে মোট ভোটারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৮৬ লাখ ৩২ হাজার ৫৫৫ জন। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত দেশের ভোটার তালিকায় এই সংখ্যক ভোটার অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। গত তিন মাসেরও কম সময়ে নতুন ভোটার বেড়েছে ৩ লাখ ৯ হাজার ৩১৫ জন।
রোববার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ দেশের সর্বশেষ ভোটারসংখ্যার এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, গত ১৪ মে থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত দেশে মোট ভোটার বেড়েছে ৩ লাখ ৯ হাজার ৩১৫ জন।
নির্বাচন কমিশনের এই হালনাগাদ তথ্য সামনে এসেছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটার তালিকা প্রস্তুতের কার্যক্রমের মধ্যে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ শুরু করেছে। কমিশনের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য ছিল।
সে অনুযায়ী ৩১ জুলাই পর্যন্ত ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তাঁদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল নির্বাচন কমিশন। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেসব নতুন ভোটার ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়েছেন, তাঁরা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচিতে পরিবর্তন এলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় পেছালে অথবা কমিশন অন্য কোনো সিদ্ধান্ত নিলে পরবর্তী সময়ে নতুন ভোটারদের নিয়ে সম্পূরক তালিকা তৈরি করা হতে পারে।
এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী আচরণবিধি প্রণয়নের কাজও এগিয়ে নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। ইসি সচিব জানান, সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আচরণবিধিগুলো আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
তবে নির্বাচনী আইন সংশোধনের সুপারিশ এখনো আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে নথি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর সংশোধনের সুপারিশ পাঠানো হবে বলে জানান ইসি সচিব।
ভোটার তালিকা হালনাগাদের পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতিও এগিয়ে নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এদিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরুর বিষয়েও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আখতার আহমেদ।
তিনি জানান, বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনে এসে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দুটি মনোনয়নপত্র নিয়ে গেছে। তবে এখন পর্যন্ত অন্য কোনো রাজনৈতিক দল মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেনি।
ফলে একদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন ভোটারদের তালিকাভুক্ত করার কাজ চলছে, অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরেও মনোনয়নপত্র বিতরণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সামনে একই সময়ে একাধিক নির্বাচনী প্রস্তুতি থাকায় ভোটার তালিকা ও নির্বাচনী বিধিবিধান চূড়ান্ত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, ১৪ মে থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত ৩ লাখ ৯ হাজার ৩১৫ জন ভোটার যুক্ত হওয়ায় বর্তমানে দেশের মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৮৬ লাখের বেশি। নতুন ভোটারদের অন্তর্ভুক্তির ফলে আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণের পরিধিও বাড়বে।
তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি পরিবর্তিত হলে নতুন ভোটারদের ভোট দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে সম্পূরক তালিকা তৈরির যে সম্ভাবনার কথা ইসি জানিয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভোটার তালিকা হালনাগাদের সঙ্গে নির্বাচনের সময়সূচির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।
এখন নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে নজর রয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন অক্টোবর থেকে শুরু করার প্রাথমিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে কি না, নাকি সময়সূচিতে পরিবর্তন আসবে—তা কমিশনের পরবর্তী সিদ্ধান্তে স্পষ্ট হবে। একই সঙ্গে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো আচরণবিধি ও প্রক্রিয়াধীন আইন সংশোধনের সুপারিশও নির্বাচনী প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে।
সব মিলিয়ে ৩১ জুলাই পর্যন্ত দেশের মোট ভোটার ১২ কোটি ৮৬ লাখ ৩২ হাজার ৫৫৫ জন। এর মধ্যে গত ১৪ মে থেকে জুলাইয়ের শেষ দিন পর্যন্ত নতুন করে যুক্ত হয়েছেন ৩ লাখ ৯ হাজার ৩১৫ জন। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন—দুই দিকের প্রস্তুতি একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার মধ্যেই ভোটার তালিকা ও নির্বাচনী বিধিবিধান চূড়ান্ত করার কাজ করছে নির্বাচন কমিশন।

