সংসদীয় আসনে উন্নয়ন বরাদ্দ বণ্টনে সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের (এমপি) মধ্যে চরম বৈষম্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যরা কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ পেলেও বিরোধী দল দাবি তুললে অন্য খাত থেকে সামান্য অর্থ ছুড়ে দেওয়া হয়—যা অনেকটা কান্না থামাতে শিশুকে চকলেট দেওয়ার মতো।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার রাষ্ট্র, সরকার ও সরকারি দলকে একাকার করে ফেলেছে। সরকারের যেকোনো অনিয়ম বা অপকর্মের বিরোধিতা করলেই সেটিকে ‘রাষ্ট্রের বিরোধিতা’ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। বিরোধী দলের দাবি ও আন্দোলনকে পাশ কাটিয়ে সরকার একদলীয় কর্তৃত্ব বজায় রেখে প্রকারান্তরে আবারও ফ্যাসিবাদ ফেরার পথ তৈরি করছে। গত কয়েক মাসে তিন মন্ত্রী ও এক সংসদ সদস্যের পদত্যাগ বা দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির ঘটনা সরকারের ভেতরে তৈরি হওয়া তীব্র অস্থিরতার বহিঃপ্রকাশ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘বিরোধী দল জুলাইকে ধারণ করে না’ বক্তব্যের জবাবে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, জামায়াতসহ ১১ দল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে বলেই জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় শতভাগ বাস্তবায়নে মাঠে রয়েছে; অথচ বিএনপি গণভোটের রায় অগ্রাহ্য করে নিজেরাই জুলাই চেতনা থেকে বিচ্যুত হয়েছে। এছাড়া জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতাকে আমন্ত্রণপত্রের কার্ড পাঠানো হলেও সেখানে তাঁর নাম না রেখে কার্যত অবমূল্যায়ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে তিনি স্পষ্ট করেন, একদলীয় ভিত্তিতে সংবিধান কাটাছেঁড়ার অপকর্মে বিরোধী দল থাকবে না; তবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে গণভোটের রায় কার্যকর করতে বিরোধী দল পুরোপুরি প্রস্তুত।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যেভাবে লুণ্ঠন, দখলদারি ও সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের রায় অবজ্ঞা করেছিল, বিএনপিও আজ সেই পথেই হাঁটছে। এ ছাড়া অতীতে জামায়াত কখনো আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়কের দাবিতে সে সময় লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বিত কর্মসূচি ছিল, যা বিএনপির গণবিরোধী নীতির কারণেই সৃষ্টি হয়েছিল।
সংবাদ সম্মেলনে কুষ্টিয়ার সংসদ সদস্য আমির হামজার তাফসির মাহফিল প্রশাসনিক ক্ষমতাবলে বন্ধের অভিযোগ তুলে তিনি সরকারকে এই পথ থেকে সরে আসার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত মাদ্রাসাগুলোর পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার তীব্র সমালোচনা করেন।
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় চরম কূটনৈতিক ব্যর্থতা রয়েছে উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দূতাবাস সময়মতো আইনি পদক্ষেপ নেয়নি এবং বিচার কার্যকর হওয়ার পর সরকারের ঘুম ভেঙেছে। সংবাদ সম্মেলনে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, হামিদুর রহমান আযাদ, এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

