এশিয়ান গেমস নারী ক্রিকেটের ফাইনালে ওঠা হলো না বাংলাদেশের। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভারতের কাছে ১১৪ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে নিগার সুলতানার দল। ভারতের দেওয়া ১৯৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ ১৫ দশমিক ৪ ওভারে মাত্র ৮১ রানে অলআউট হয়। ভারত ২০ ওভারে করেছিল ৪ উইকেটে ১৯৫ রান।
রোববার জাপানের নিশিনের কোরোগি স্পোর্টস পার্কে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। শুরু থেকেই বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করেন দুই ওপেনার শেফালি ভার্মা ও স্মৃতি মান্ধানা। উদ্বোধনী জুটিতেই দ্রুত রান তুলে বড় সংগ্রহের ভিত তৈরি করে দেন তাঁরা।
মান্ধানা ১৯ বলে ৩৭ রান করে ফিরলেও এক প্রান্তে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে যান শেফালি। এরপর অধিনায়ক হারমানপ্রিত কৌরকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের ওপর চাপ আরও বাড়ান তিনি। শেফালি ও হারমানপ্রিতের জুটিতে মাত্র ৩৬ বলে আসে ৯৪ রান। হারমানপ্রিত ৪০ রান করেন।
ম্যাচের সবচেয়ে বড় পার্থক্য গড়ে দেন শেফালি। মাত্র ২৪ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করার পরও থামেননি ভারতীয় ওপেনার। শেষ পর্যন্ত ৪৯ বলে অপরাজিত ১০০ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ৩টি চার ও ৯টি ছক্কা। এটি তাঁর প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি শতক। একই সঙ্গে এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটে শতক করা প্রথম ব্যাটারও হয়েছেন শেফালি।
শেফালির শতকে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ১৯৫ রান। ফলে ফাইনালে জায়গা করে নিতে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৯৬।
বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটাই ভালো হয়নি বাংলাদেশের। প্রথম ওভারেই কোনো রান না করে ফিরে যান জুইরিয়া ফেরদৌস। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। পাওয়ারপ্লে শেষে ৩ উইকেটে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৩৯ রান।
শুরুর ধাক্কা সামলে বড় কোনো জুটি গড়তে পারেননি বাংলাদেশের ব্যাটাররা। ভারতের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে প্রয়োজনীয় রানরেটও ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত ১৫ দশমিক ৪ ওভারে ৮১ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।
ভারতের বোলারদের মধ্যে নন্দিনী শর্মা ও দীপ্তি শর্মা ৩টি করে উইকেট নেন। শ্রী চরাণি ৭ রান খরচ করে নেন ২ উইকেট। ক্রান্তি গৌড় ও শ্রেয়াঙ্কা পাটিল নেন একটি করে উইকেট। ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই দাপট দেখিয়ে ১১৪ রানের জয় নিশ্চিত করে ভারত।
এই জয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো এশিয়ান গেমস নারী ক্রিকেটের স্বর্ণপদকের ম্যাচে উঠেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত। ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা। স্বর্ণপদকের ম্যাচটি ২২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে।
বাংলাদেশের জন্য সেমিফাইনালের সবচেয়ে বড় হতাশা ছিল ব্যাটিং। ১৯৬ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই উইকেট হারানোর পর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি দল। ফলে ভারতের বড় সংগ্রহের জবাব দিতে না পেরে ১১৪ রানের ব্যবধানে হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে টাইগ্রেসদের।

