জাপানে পৌঁছানোর পর থেকেই বৃষ্টি যেন পিছু ছাড়ছিল না বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে লিটন দাসরা ঠিকমতো অনুশীলনও করতে পারেননি। এমনকি এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের কোয়ার্টার ফাইনালে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচটিও বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়েছে। তবে র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকায় ম্যাচ না খেলেই সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ।
এবার বাংলাদেশের সামনে আরও বড় পরীক্ষা। আগামীকাল বাংলাদেশ সময় ভোর ছয়টায় ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে লিটন দাসের দল। এই ম্যাচে অবশ্য বৃষ্টি বাংলাদেশের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ। কারণ, সেমিফাইনালও বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হলে র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকার সুবাদে ফাইনালে চলে যাবে পাকিস্তান।
তাই মাঠের প্রতিপক্ষের পাশাপাশি আবহাওয়ার দিকেও নজর রাখতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটির আগে কিছুটা স্বস্তির খবর পেয়েছে দল। আইচি-নাগোয়াতে অবশেষে রোদের দেখা মিলেছে। জাপানে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় বৃষ্টিবন্দী থাকার পর রোদে মাঠে অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা।
দলের মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান ইয়াসির আলীও এতে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তাঁর আশা, পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের দিনও আবহাওয়া অনুকূলে থাকবে।ইয়াসির বলেন, ‘জাপান আসার পর মনে হয় এই প্রথম আমরা রোদ দেখলাম। ভালো লাগছে, আজকে আমরা একটু ভালোমতো মাঠে নামতে পেরেছি। আশা করি আমরা একটা ভালো আবহাওয়া পাবো খেলার জন্য।’
এশিয়ান গেমসের ছেলেদের ক্রিকেট ইভেন্ট সামনে রেখে বাংলাদেশ দল অবশ্য ঢাকাতেই দীর্ঘ প্রস্তুতি নিয়েছিল। প্রায় ১০ দিন অনুশীলনের পাশাপাশি নিজেদের মধ্যে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলেছেন ক্রিকেটাররা। ফলে জাপানে গিয়ে আবহাওয়ার কারণে নিয়মিত ব্যাটিং-বোলিং অনুশীলন করতে না পারলেও প্রস্তুতির ঘাটতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেছেন তাঁরা।
ইয়াসির জানিয়েছেন, জাপানের আবহাওয়া অনুশীলনে বাধা তৈরি করলেও ক্রিকেটাররা মানসিকভাবে নিজেদের প্রস্তুত রাখার চেষ্টা করেছেন। মাঠে ব্যাটিং বা বোলিং করা সম্ভব না হলেও ফিটনেস ধরে রাখতে বিকল্প উপায়ে কাজ করেছেন তাঁরা।
বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের পাঠানো এক ভিডিওতে ইয়াসির বলেন, ‘আমরা সব সময় মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখি নিজেকে। যতটা নিজেকে মাঠে রাখা যায়, যেমন পুরো দলের একটা জিম সেশন ছিল। আমরা ব্যাটিং-বোলিং করতে পারিনি কিন্তু মাঠে এসেছিলাম, ফুটবল মাঠে আমরা প্র্যাকটিস করেছি, ফুটবল খেলেছি।’
কোয়ার্টার ফাইনালে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে মাঠে নেমে নিজেদের পরীক্ষা করার সুযোগ ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু বৃষ্টি সেই সুযোগ দেয়নি। ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় র্যাঙ্কিংয়ের সুবিধা নিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে লিটন দাসের দল।
সেমিফাইনালে এসে অবশ্য সেই একই সমীকরণ বাংলাদেশের বিপক্ষে। পাকিস্তান র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকায় ম্যাচ না হলে তারাই ফাইনালের টিকিট পাবে। ফলে ফাইনালে ওঠার সুযোগ তৈরি করতে বাংলাদেশের প্রথম প্রয়োজন ম্যাচ মাঠে গড়ানো।
এই পরিস্থিতিতে জাপানের আকাশে রোদের দেখা পাওয়াটা বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির। দীর্ঘদিন পর মাঠে নেমে অনুশীলনের সুযোগ পাওয়ায় পাকিস্তানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে নিজেদের প্রস্তুত করার সুযোগও পেয়েছেন ক্রিকেটাররা।
এখন লিটনদের প্রত্যাশা একটাই—সেমিফাইনালের দিনও যেন আবহাওয়া অনুকূলে থাকে। কারণ পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে উঠতে হলে আগে প্রয়োজন একটি পূর্ণাঙ্গ ম্যাচের সুযোগ।

