এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের ফাইনালে উঠেছে ভারত। জাপানের নিশিনে ছেলেদের সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ১২৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে তারা। ব্যাট হাতে ঈশান কিষানের দুর্দান্ত ৮০ রানের ইনিংসের পর বল হাতে দাপট দেখান যশপ্রীত বুমরারা। ভারতের ১৬৯ রানের জবাবে মাত্র ৪৫ রানেই গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। দিনের প্রথম সেমিফাইনালে বাংলাদেশকে ৬ উইকেটে হারিয়ে আগেই ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছিল পাকিস্তান। ফলে শিরোপার লড়াইয়ে ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি হলেও ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হবে শ্রীলঙ্কা।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ভারতের শুরুটা অবশ্য স্বস্তির ছিল না। প্রথম ৩ ওভারে ২৪ রান তুলতেই ২ উইকেট হারায় তারা।
অভিষেক শর্মা ও সঞ্জু স্যামসনের মতো ব্যাটসম্যানরা প্রত্যাশা অনুযায়ী রান করতে পারেননি।
তবে ভারতের ব্যাটিং গভীরতার প্রমাণ দেন ঈশান কিষান ও মাত্র ১৫ বছর বয়সী বৈভব সূর্যবংশী। শুরুতেই উইকেট হারানোর চাপ সামলে পাল্টা আক্রমণ করেন বৈভব। ২১ বলে ৩৮ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল চারটি চার ও দুটি ছক্কা।
বৈভবের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে প্রাথমিক চাপ কাটিয়ে ওঠে ভারত। এরপর দলের ইনিংসের মূল দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন ঈশান কিষান। শ্রীলঙ্কার বোলারদের সামলে ৮০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁর ব্যাটে ভর করেই শেষ পর্যন্ত ভারত ১৬৯ রানের লড়াই করার মতো সংগ্রহ পায়।
কিন্তু শ্রীলঙ্কার জন্য সেই লক্ষ্যই শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠে অনেক বড়। রান তাড়ায় শুরু থেকেই ভারতীয় বোলারদের সামনে বিপর্যয়ে পড়ে দলটি। যশপ্রীত বুমরাদের নিয়ন্ত্রিত ও আক্রমণাত্মক বোলিংয়ের সামনে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে শ্রীলঙ্কা।
কোনো ব্যাটসম্যানই ইনিংস বড় করতে না পারায় মাত্র ৪৫ রানেই থেমে যায় শ্রীলঙ্কার ইনিংস। ফলে ১২৪ রানের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ভারত এবং নিশ্চিত করে ফাইনালের জায়গা।
এই ম্যাচে ভারতের ব্যাটিং লাইনআপের গভীরতাও আবার সামনে এসেছে। অভিষেক শর্মা ও সঞ্জু স্যামসন ব্যর্থ হলেও বৈভব সূর্যবংশী ও ঈশান কিষান সেই ঘাটতি পূরণ করেছেন। বিশেষ করে চাপের মুহূর্তে ঈশানের ৮০ রানের ইনিংসই ম্যাচের গতিপথ ভারতের দিকে ঘুরিয়ে দেয়।
এখন এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের স্বর্ণপদকের লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে ভারত ও পাকিস্তান। অন্যদিকে সেমিফাইনালে হেরে যাওয়া বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা নামবে ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে।


