আট দফা দাবিতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখী লংমার্চের বহরের প্রায় সাড়ে চার শ গাড়ি যমুনা সেতু পার হয়েছে। যমুনা সেতুর টোল প্লাজা সূত্রের হিসাবে, মূল বহরের পাশাপাশি আগে ও পরে যাওয়া লংমার্চের স্টিকারযুক্ত গাড়ি মিলিয়ে মোট ৪৩০ থেকে ৪৫০টি গাড়ি সেতু অতিক্রম করেছে।
শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে লংমার্চ কর্মসূচি শুরু হয়। সকাল ৮টার দিকে গাড়িবহর রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে। সমসাময়িক সংবাদ প্রতিবেদনেও লংমার্চ শুরু এবং আট দফা দাবির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করার পর লংমার্চের গাড়িবহর গাজীপুর হয়ে টাঙ্গাইলে প্রবেশ করে। বেলা সোয়া ১১টার দিকে বহরটি টাঙ্গাইল শহর বাইপাস সড়কের নগর জালফৈ মোড়ে পৌঁছায়। সেখানে ১১–দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে একটি পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
পথসভায় বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি অলি আহমদ, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, আমার বাংলাদেশ পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ জোটের নেতারা বক্তব্য দেন। লংমার্চের ঘোষিত কর্মসূচিতেও টাঙ্গাইলের নগর জালফৈসহ পাঁচটি স্থানে পথসভার কথা জানানো হয়েছিল।
টাঙ্গাইলের পথসভা শেষ করে গাড়িবহরটি আবার রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। যমুনা সেতুর টোল প্লাজা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ১২টা ৩২ মিনিটে লংমার্চের মূল বহর সেতুর পূর্ব প্রান্তের টোল প্লাজায় পৌঁছায়। এরপর টোল পরিশোধ করে বিভিন্ন লেন দিয়ে গাড়িগুলো উত্তরবঙ্গের দিকে যেতে থাকে।
দুপুর ১২টা ৪৭ মিনিট পর্যন্ত মূল বহরের গাড়িগুলো সেতু পার হয়। অর্থাৎ মূল গাড়িবহরের যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্তের টোল প্লাজা অতিক্রম করতে প্রায় ১৫ মিনিট সময় লাগে।
তবে গাড়ির হিসাব শুধু ওই ১৫ মিনিটের মূল বহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। মূল বহর পৌঁছানোর আগেই লংমার্চে অংশ নেওয়া কয়েকটি গাড়ি বিচ্ছিন্নভাবে সেতু পার হয়েছিল। আবার মূল বহর চলে যাওয়ার পরও লংমার্চের স্টিকার লাগানো কিছু গাড়ি সেতু অতিক্রম করে। সব মিলিয়ে টোল প্লাজা সূত্রের হিসাবে লংমার্চের ৪৩০ থেকে ৪৫০টি গাড়ি যমুনা সেতু পার হয়েছে।
এবারের রংপুর লংমার্চে ১১–দলীয় ঐক্য আটটি দাবি সামনে এনেছে। এর মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সারসংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন। NTV
এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চে ছয় দফা দাবি নিয়ে কর্মসূচি পালন করেছিল ১১–দলীয় ঐক্য। রংপুরের কর্মসূচিতে আরও দুটি বিষয় যুক্ত করে দাবির সংখ্যা আট করা হয়েছে। এর মধ্যে উত্তরাঞ্চলের তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিও রয়েছে।
ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ঢাকা থেকে রংপুর যাওয়ার পথে গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস, টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল, বগুড়ার চারমাথা ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা নির্ধারিত ছিল। রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা।
টোল প্লাজার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, লংমার্চে অংশ নেওয়া গাড়ির সুনির্দিষ্ট সংখ্যা একক কোনো অঙ্কে নির্ধারণ করা হয়নি। তাদের হিসাবের পরিসর অনুযায়ী, ৪৩০ থেকে ৪৫০টি গাড়ি যমুনা সেতু পার হয়েছে।

