নেত্রকোনার বারহাট্টায় এক নারীকে মারধরের সুস্পষ্ট অভিযোগে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক সোহেলকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এর আগেও মা-বাবাকে মারধরের অভিযোগে একবার তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে প্রত্যাহার করা হয়।
যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহদপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন মোজাম্মেল হককে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন।
দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার রাতে নেত্রকোনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল হক বারহাট্টায় পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে গেলে উপজেলা সদরের কোর্ট রোডে অর্চনা রানী দাস নামের এক নারী তাঁর পায়ে পড়ে কান্নাকাটি করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, অর্চনা রানী তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের বিরোধের জেরে মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে তাঁকে মারধরের অভিযোগ করছেন। সংসদ সদস্য এ সময় তাঁর অভিযোগ শোনেন।
এর আগে জমি লিখে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে মা-বাবাকে নির্যাতনের অভিযোগে গত ৪ জুলাই দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন তিনি। পরে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে সুপারিশের ভিত্তিতে ৩০ জুলাই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছিল।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে মোজাম্মেল হক সোহেল দাবি করেন, তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অর্চনা রানীর ভাবির কাছে পাওনা এক লাখ টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে কেবল তর্কবিতর্ক হয়েছিল, কিন্তু প্রতিপক্ষ ওই নারীকে প্ররোচিত করে মারধরের বানোয়াট অভিযোগ তুলে এমপির কাছে উপস্থাপন করেছে। পাশাপাশি পূর্বের মা-বাবাকে নির্যাতনের অভিযোগটিও সাজানো ছিল বলে দাবি করেন তিনি।



