২০২৩ সালে পোশাকশ্রমিকরা ন্যূনতম মজুরি ২৩ হাজার টাকা করার দাবিতে রাস্তায় নেমেছিলেন। তখন ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ সরকার। সেই দাবি মানা হয়নি। মজুরি বোর্ড ঘোষণা করে সাড়ে ১২ হাজার টাকা। আন্দোলনের মধ্যেই দলীয় এক সভায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যে মজুরি বাড়ানো হয়েছে তা নিয়েই শ্রমিকদের কাজ করতে হবে। রাস্তায় নামলে চাকরি হারিয়ে গ্রামে ফিরে যেতে হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। সেই আন্দোলনে প্রাণ হারান রাসেল হাওলাদার, ইমরান হোসেন, আঞ্জুয়ারা খাতুন ও জালাল উদ্দিন নামের চার শ্রমিক। শ্রমিক নেতাদের দাবি, আন্দোলনের পর ৬২টি মামলায় প্রায় ২৩ হাজার শ্রমিককে আসামি করা হয়।
তিন বছর পর দৃশ্যপট উল্টে গেছে। বিএনপি এখন ক্ষমতায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আর পোশাকশ্রমিকরা এবার ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আন্দোলন করছেন। মিরপুর, গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ আর পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে। এর মধ্যে ১ নভেম্বর শ্রম মন্ত্রণালয় নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। ৪ নভেম্বর বোর্ড জানিয়েছে, মজুরি বাড়ানোর বিষয়ে তারা একমত হয়েছে। তবে নতুন অঙ্ক এখনো ঘোষণা হয়নি।
এদিকে আন্দোলন নিয়ে বিএনপির সুর এবার ভিন্ন। ২ নভেম্বর সিলেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলনে পরাজিত শক্তির উসকানি আছে। তাঁর অভিযোগ, শ্রমিকদের মিথ্যা কথা বলে রাস্তায় নামানো হচ্ছে। ৩০ হাজার টাকার দাবি যৌক্তিক কিনা, সে বিষয়ে তাঁর কোনো স্পষ্ট অবস্থান পাওয়া যায়নি। দলের আরেক জ্যেষ্ঠ নেতা মির্জা আব্বাসের কোনো প্রকাশ্য বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। শুধু তাই নয়, মিরপুরে যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের লাঠি হাতে মিছিল করতে দেখা গেছে। আন্দোলনরত কয়েকজন শ্রমিকের অভিযোগ, তারা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করছিলেন, তখন বিএনপি নেতারা এসে তাদের মারধর করেন।
অন্যদিকে, যে আওয়ামী লীগ সরকার ২০২৩ সালে ২৩ হাজার টাকার দাবি নাকচ করেছিল, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সেই দলটিকে এখন দেখা যাচ্ছে ৩০ হাজার টাকার দাবির পক্ষে। দলটির ফেসবুক পেজে “৩০ হাজার বেতন দে, নইলে গদি ছেড়ে দে” স্লোগানসহ ভিডিও প্রচার হয়েছে বলে খবর বেরিয়েছে। তবে সরকার ও পুলিশ বলছে, শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা নাশকতার চেষ্টা করছেন। এ অভিযোগে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ কয়েক ডজন মানুষকে আটক করা হয়েছে। অবশ্য শ্রমিক সংগঠনগুলোর বক্তব্য, ৩০ হাজার টাকা শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দাবি, আর ভাঙচুর বহিরাগতদের কাজ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিরোধী দলে থাকতে শ্রমিকের দাবির পক্ষে আর ক্ষমতায় গেলে আন্দোলনে ষড়যন্ত্র খোঁজা, এই চক্রে আওয়ামী লীগ আর বিএনপি এক জায়গায় দাঁড়িয়ে। আর দুই দলের এই অবস্থান বদলের মাঝে আটকে আছেন দেশের প্রায় ৪০ লাখ পোশাকশ্রমিক।

