ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন তরুণ অভিনয়শিল্পী সাবরিন আজাদ। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক কোনো চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের সিনেমার প্রতিনিধিত্ব করতে যাওয়া একজন শিল্পীর সঙ্গে শুধু তাঁর ব্যক্তিগত পরিচয় নয়, দেশের পরিচয়ও জড়িয়ে থাকে। তাই বিদেশের মাটিতে রাজনৈতিক মতবিরোধকে কেন্দ্র করে এমন ঘটনা বাংলাদেশের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর অভিনেত্রী সাবরিন আজাদ।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক কোনো চলচ্চিত্র উৎসবে একজন শিল্পী যখন দেশের সিনেমার প্রতিনিধিত্ব করতে যান, তখন তাঁর রাজনৈতিক মতাদর্শ, জাতি কিংবা ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য হওয়া উচিত নয়। তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ওই শিল্পী সেখানে বাংলাদেশের সিনেমার প্রতিনিধিত্ব করছেন।
সাবরিনের বক্তব্যে উঠে আসে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার গুরুত্বের বিষয়টিও। তাঁর ভাষ্য, বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের সিনেমা কিংবা দেশের ইতিবাচক কোনো কিছুর প্রতিনিধিত্ব করার গুরুত্ব হয়তো সবার কাছে সমানভাবে উপলব্ধ নয়। কিন্তু বিদেশের মাটিতে এমন কোনো কাজ না করা, যার কারণে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে—এ বিষয়ে অন্তত ন্যূনতম সচেতনতা থাকা প্রয়োজন।
ইতালিতে বাঁধনের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে সেই জায়গা থেকেই দেখছেন সাবরিন। তাঁর মতে, এ ধরনের ঘটনায় দেশের মর্যাদা ও ভাবমূর্তির চেয়ে রাজনৈতিক দলীয় পরিচয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি সামনে আসে।
বিদেশে বাংলাদেশিদের অবস্থান এবং বিভিন্ন দেশের ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রেও এমন ঘটনার সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই অভিনেত্রী। সাবরিনের ভাষ্য, বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশিদের ভিসা পাওয়া এরই মধ্যে কঠিন হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের নাগরিকদের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘাতের ঘটনা ঘটলে সেটি দেশের জন্য ইতিবাচক বার্তা দেয় না।
বাংলাদেশের পাসপোর্টের অবস্থান নিয়েও উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, দেশের বাইরে বাংলাদেশিদের আচরণের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত দেশের পরিচয়ও যুক্ত হয়ে যায়। ফলে ব্যক্তিগত কিংবা রাজনৈতিক বিরোধের কারণে বিদেশে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে তার প্রভাব কেবল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না।
পোস্টের শেষ দিকে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশি নারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে আনেন সাবরিন আজাদ। রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে দেশের মানুষই যদি বিদেশে বাংলাদেশের নারীদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে ওঠেন, তাহলে সেটি উদ্বেগজনক বলে মনে করেন তিনি।
তাঁর বক্তব্যের মূল জায়গা ছিল—রাজনৈতিক মতাদর্শে পার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব এবং দেশের ভাবমূর্তির প্রশ্নে সেই বিভাজনকে সামনে আনা উচিত নয়। বিশেষ করে একজন শিল্পী যখন কোনো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে দেশের সিনেমার প্রতিনিধিত্ব করেন, তখন তাঁর সঙ্গে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিচয়ও যুক্ত থাকে।
ইতালিতে আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে তাই ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে দেশের পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সাবরিন আজাদ। একই সঙ্গে বিদেশের মাটিতে রাজনৈতিক বিরোধ যেন বাংলাদেশের নাগরিক, বিশেষ করে নারীদের নিরাপত্তা এবং দেশের ভাবমূর্তির জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে না দাঁড়ায়—সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।

