ডেস্ক রিপোর্ট | নাহিদ হাসান
অসম্ভব রকমের সরু ফাঁকফোকর দিয়ে অক্টোপাস কীভাবে অনায়াসে গলে যায়, তার বিস্তারিত প্রক্রিয়া উন্মোচন করেছেন সিঙ্গাপুর ও ইতালির গবেষকেরা। এবার সেই কৌশল কাজে লাগিয়ে দুর্যোগের ধ্বংসস্তূপে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজের জন্য নতুন ধরনের রোবট বানানোর পরিকল্পনা করছেন বিজ্ঞানীরা।
মানুষের মতো শক্ত কোনো কঙ্কাল অক্টোপাসের নেই। এদের শরীর গঠিত ‘পেশিবহুল হাইড্রোস্ট্যাট’ দিয়ে, ফলে আটটি বাহু ইচ্ছেমতো বাঁকানো যায় এবং শরীরের মধ্যভাগও আকার বদলাতে পারে। সরু জায়গায় ঢোকার সময় শরীর সংকুচিত হলেও প্রধান রক্তনালির পেশিব্যবস্থা রক্ত সঞ্চালন সচল রাখে। পাথুরে উপকূলে থাকা অক্টোপাস মূলত শিকারি প্রাণীর হাত থেকে বাঁচতে এবং দুর্গম কোণে লুকিয়ে থাকা শিকার ধরতে বাহুর স্পর্শকাতর অনুভূতি দিয়ে সরু ফাটল পরখ করে।
গবেষকেরা দেখেছেন, ছোট গর্ত দিয়ে গলতে অক্টোপাস মূলত দুটি কৌশল বেছে নেয়। গর্তের মুখ যদি তার দুই চোখের মধ্যবর্তী দূরত্বের চেয়ে চওড়া হয়, তবে প্রাণীটি তিন ধাপের একটি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। প্রথমে একটি বাহু দিয়ে জায়গাটা পরখ করে, এরপর কয়েকটি বাহু ভেতরে ঢুকিয়ে দেয় এবং শেষে সেই বাহুগুলোতে ভর দিয়ে পুরো শরীর ও মাথা টেনে নেয়।
বিজ্ঞানীদের আশা, এই কৌশল কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে এমন রোবট তৈরি করা যাবে, যা ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে ঢুকে মানুষ খুঁজতে পারবে। বর্তমানে ব্যবহৃত উদ্ধারকারী রোবট সাধারণত লম্বা ও সরু হয়, যাতে ছোট জায়গা পার হতে পারে। অক্টোপাস-অনুপ্রাণিত রোবট নমনীয় বাহুর সাহায্যে সেন্সর, যন্ত্রপাতি ও যোগাযোগের সরঞ্জাম আরও বেশি বহন করতে পারবে।
তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়। সরু পথ পেরোতে রোবটের বাহু যেমন নরম হতে হবে, তেমনি পুরো শরীর টেনে নেওয়ার মতো যথেষ্ট শক্তিশালীও হতে হবে। প্রকৌশলীদের জন্য এই দুইয়ের ভারসাম্য মেলানোই এখন বড় কাজ।

