সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শুরু হওয়া একটি বিতর্কের জেরে সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হয়েছেন শ্রীলঙ্কার ২৪ বছর বয়সী অভিবাসী শ্রমিক আনোজান। ইসলাম ও মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননার অভিযোগে করা মামলায় দেশটির একটি আপিল আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে আনোজানের মামলার বিষয়টি সামনে এসেছে। এরপর ঘটনাটি শ্রীলঙ্কায় ব্যাপক উদ্বেগ ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত শ্রীলঙ্কার একটি হিন্দু তীর্থযাত্রাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হওয়া বিতর্ক থেকে। ওই বিতর্কের একপর্যায়ে আনোজানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে এবং বিষয়টি মামলা পর্যন্ত গড়ায়।
পরবর্তী সময়ে ইসলাম ও মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননার অভিযোগে করা মামলায় আনোজানকে দোষী সাব্যস্ত করেন সৌদি আরবের আপিল আদালত। আদালতের রায়ে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
আনোজানের মৃত্যুদণ্ডের খবর প্রকাশ্যে আসার পর তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জোরালো হয়েছে শ্রীলঙ্কায়। দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ধর্মীয় নেতা এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা তাঁর প্রাণ রক্ষায় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
আনোজানকে ক্ষমা করে দেশে ফেরার সুযোগ দেওয়ার দাবিও উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন মহল থেকে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে মানবিক বিবেচনার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
শ্রীলঙ্কা সরকারও আনোজানের প্রাণ রক্ষায় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তাঁর জন্য প্রাণভিক্ষা চাওয়া এবং শেষ পর্যন্ত দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২৪ বছর বয়সী একজন অভিবাসী শ্রমিকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হওয়া একটি বিতর্ক থেকে মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনাটি এখন শ্রীলঙ্কায় আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। দেশটির সরকারসহ বিভিন্ন পক্ষের প্রচেষ্টার মধ্যে এখন নজর রয়েছে আনোজানের মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।


