রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অরাজনৈতিক সংগঠনে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ চলছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি। এসব সংগঠনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পদক্ষেপও দাবি করেছেন ছাত্রদল সভাপতি।
মঙ্গলবার মধ্যরাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এসব কথা বলেন রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠার পর সংগঠনটি তিন নেতাকে বহিষ্কার এবং ছয়জনকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছে। সংবাদমাধ্যমের ভিডিও ফুটেজেও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীকে শনাক্ত করার কথা উঠে এসেছে।
ফেসবুক পোস্টে ছাত্রদল সভাপতি দাবি করেন, তাঁর সংগঠন কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ছাত্রদল ‘সর্বোচ্চ সাংগঠনিক ব্যবস্থা’ গ্রহণ করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তবে ঘটনার নেপথ্যে ছাত্রশিবিরের নেতারা জড়িত ছিলেন বলেও অভিযোগ করেন রাকিব। তাঁর এই অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি বলেন, এ ঘটনায় যাঁদের তিনি শিবিরের নেতা হিসেবে অভিযুক্ত করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেয়, সেটি দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা।
এর পাশাপাশি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অরাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ছাত্রদল সভাপতি। এসব সংগঠনের ভেতরে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ চলছে বলে অভিযোগ করে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
এর আগে রোববার রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার সময় কয়েকজনের হাতে দেশীয় অস্ত্র, হকিস্টিক, পাইপ ও ব্যাট ছিল।
ঘটনার পর হামলার তদন্তে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ। কমিটিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও ঘটনার তদন্তে কমিটি গঠন করেছে। হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করা হয়। ভিডিও ফুটেজে কয়েকজনের পরিচয় শনাক্ত হওয়ার খবর প্রকাশিত হলেও মামলায় কারও নাম না থাকায় ক্যাম্পাসের সাংবাদিকেরা প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদও হয়েছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাস সাংবাদিকেরা হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


