বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩, ২৮ সফর ১৪৪৮

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী কে—এই প্রশ্নের উত্তর এখন অনেকটাই পরিষ্কার। দলের উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে দলের মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। তবে দলটি এখনই আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নাম ঘোষণা করতে চাইছে না। আগামীকাল বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়ই প্রকাশ্যে আসবে বিএনপির প্রার্থীর নাম।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে এরই মধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। কারণ, একদিকে ক্ষমতাসীন বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলের নাম সামনে এসেছে, অন্যদিকে জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য ইতিমধ্যেই বিএনপির সাবেক নেতা এবং বর্তমানে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত অলি আহমদকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে।

ফলে এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিএনপির দায়িত্বশীল একজন নেতা জানিয়েছেন, দলের স্থায়ী কমিটি রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যানের ওপর দিয়েছে। সে কারণেই আগাম প্রার্থী ঘোষণা করবে না বিএনপি। আগামী ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়ই বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট হবে।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। আর আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি পদে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে মির্জা ফখরুলের প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি নিয়ে শুধু রাজনৈতিক সূত্রই নয়, আরও কিছু প্রস্তুতির তথ্য সামনে এসেছে। বিএনপির উচ্চপর্যায়ের সূত্রগুলো জানিয়েছে, দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মির্জা ফখরুলের মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছেন। এমনকি রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য মনোনয়নপত্রে প্রার্থীর সম্মতিসূচক স্বাক্ষর বা লিখিত সম্মতি দেওয়ার যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সেটিও মির্জা ফখরুল ইতিমধ্যে সম্পন্ন করেছেন বলে জানা গেছে।

এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশন থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে বিএনপি। একই ব্যক্তির নামে একাধিক মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সে ক্ষেত্রে যেকোনো একটি মনোনয়নপত্র বৈধ হলেই ওই ব্যক্তি বৈধ প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হবেন।

এর আগে সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের নির্বাচনেও তাঁর নামে দুটি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল।

মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করার পর পদটি শূন্য হয়। এরপর থেকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এখন নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মাধ্যমে সেই শূন্যতা পূরণ করার প্রক্রিয়া চলছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদেও প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ভোট গ্রহণের জন্য আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদের বৈঠক ডাকা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে। এ নির্বাচনে ভোটার হবেন জাতীয় সংসদের সদস্যরা। সংসদ সদস্যদের প্রকাশ্য ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সাংবিধানিক ব্যবস্থা রয়েছে।

এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে প্রস্তুতিও চলছে। গতকাল জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে একটি প্রস্তুতিমূলক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে চিফ হুইপ, বিরোধী দলের চিফ হুইপ এবং বিভিন্ন হুইপসহ সংসদ ও নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সংসদের অধিবেশন কক্ষ ব্যবহার, প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

তবে নির্বাচনের আগে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যরা নিজ দলের বাইরে কোনো প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকায় দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দিলে সংসদ সদস্য পদ বাতিল হতে পারে।

অর্থাৎ মির্জা ফখরুল যদি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন পান, তাহলে ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যদের ভোট তাঁর পক্ষেই যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। অন্যদিকে ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদকে ঘিরে বিরোধী জোটের অবস্থানও স্পষ্ট।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অবশ্য বলেছেন, তাঁরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হতে দিতে চান না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গণতন্ত্রের জন্য অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রয়োজন। ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়া উচিত ছিল বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।

এখন মূল অপেক্ষা ১৩ আগস্টের দিকে। সেদিন মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পরই আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যাবে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম। এরপর ২০ আগস্ট সংসদে অনুষ্ঠিত হবে ভোট।

সব মিলিয়ে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ হলো—ক্ষমতাসীন বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আর বিরোধী ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় এই দুই প্রার্থীর অবস্থান কী হয়, সেটিই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রধান আলোচনার বিষয়।

সম্পাদক ও প্রকাশক: শিহাব আহমেদ

Sokal News | সকাল নিউজ is a youth-led online news and media portal dedicated to delivering accurate, timely, and impactful news. Driven by a passion for truth and transparency, our mission is “সত্যের আলোয় প্রতিদিন” (“In the light of truth, every day”). Stay connected with us for trustworthy news coverage from a fresh perspective.

প্রধান কার্যালয়:
সকাল নিউজ, ই-১৭/৬, চায়না টাউন, ভিআইপি রোড, নয়াপল্টন, ঢাকা-১০০০

© 2026 সকাল নিউজ. সর্বস্বত্ত সংরক্ষিত Shihab Group.
Exit mobile version