দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মাত্র এক মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে দেশটির উত্তর উপকূলে আঘাত হেনেছে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প। এতে বহু ভবন ধসে পড়েছে, আতঙ্কে হাজারো মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় আশ্রয় নিয়েছে। এখন পর্যন্ত অন্তত ৩২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির সরকার।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস সতর্ক করে জানিয়েছে, প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে এবং উদ্ধারকর্মী ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় সময় সন্ধ্যার দিকে প্রথম ভূমিকম্পটি আঘাত হানে ইয়ারাকুই অঙ্গরাজ্যের রাজধানী সান ফেলিপের কাছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২। মাত্র ৪০ সেকেন্ড পর একই অঞ্চলে আরও শক্তিশালী ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্প আঘাত হানে। দ্বিতীয় ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল ইউমারে শহরের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল, যেখানে দেশের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি তেল শোধনাগার অবস্থিত।
ভূমিকম্পের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে রাজধানী কারাকাসসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়। এমনকি প্রতিবেশী কলম্বিয়া থেকেও কম্পনের খবর পাওয়া গেছে।
রাজধানী কারাকাসে একাধিক ভবন আংশিকভাবে ধসে পড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় সড়ক, ভবন ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে পাহাড়ি এলাকায় ভবন ধসে পড়া এবং আতঙ্কিত মানুষকে রাস্তায় আশ্রয় নিতে দেখা গেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় উচ্চপর্যায়ের একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। রাজধানীর কাছে অবস্থিত সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি এক সপ্তাহের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। রেল যোগাযোগ এবং জরুরি নয় এমন সরকারি কার্যক্রমও স্থগিত করা হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, একাধিক অঙ্গরাজ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ইন্টারনেট সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
এদিকে সুনামির আশঙ্কা থাকলেও পরে তা প্রত্যাহার করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। যুক্তরাষ্ট্রের সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র জানিয়েছে, বর্তমানে কোনো উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য সুনামির ঝুঁকি নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক সংকটে থাকা ভেনেজুয়েলার জন্য এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ নতুন করে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম কত দ্রুত এগোবে, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের।

