সেতু নির্মাণে নির্ধারিত স্পেসিফিকেশনের বাইরে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে টাঙ্গাইলের বাসাইলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) এক কার্যসহকারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই ধরনের অভিযোগে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে তিন প্রকৌশলী ও এক কার্যসহকারীসহ মোট চার কর্মকর্তার কাছে কৈফিয়ত তলব করেছে এলজিইডি।
টাঙ্গাইলের বাসাইলে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তা মো. হাসমত আলী উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের কার্যসহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি প্রোগ্রাম ফর সাপোর্টিং রুরাল ব্রিজেস (SupRB) প্রকল্পের আওতায় মাইজখাড়া জিপিএস সড়কের ২ হাজার ৩০৫ মিটার চেইনেজে নির্মাণাধীন ৯০ দশমিক ০৬ মিটার দীর্ঘ পিএসসি গার্ডার সেতুর কাজ তদারকির দায়িত্বে ছিলেন।
এলজিইডির অফিস আদেশে বলা হয়েছে, ওই সেতু নির্মাণে নির্ধারিত স্পেসিফিকেশনের বাইরে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। পরে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ায় এলজিইডি তথা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়।
অফিস আদেশে আরও বলা হয়েছে, কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশ করে অবৈধভাবে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অসদুদ্দেশ্যে হাসমত আলী রডের পরিবর্তে বাঁশ এবং স্পেসিফিকেশনবহির্ভূত নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করেছেন বলে কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে।
এই অভিযোগের পর তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিধিমালার ৩(খ) ও ৩(ঘ) ধারায় বর্ণিত অসদাচরণ ও দুর্নীতিপরায়ণতার অভিযোগে তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
একই বিধিমালার ১২(১) বিধি অনুযায়ী মো. হাসমত আলীকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে সাময়িক বরখাস্ত থাকা অবস্থায় তিনি প্রচলিত বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা পাবেন। অফিস আদেশ জারির তারিখ থেকেই বরখাস্তের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।
এদিকে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নির্মাণাধীন আরেকটি সেতুতেও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সেতুটির ফুটপাতের স্ল্যাব ও রেলিংয়ের রডের কাজে অনিয়মের অভিযোগে এলজিইডির তিন প্রকৌশলী ও এক কার্যসহকারীর কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হয়েছে।
বুধবার এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত পৃথক চারটি চিঠিতে তাঁদের কৈফিয়ত তলব করা হয়।
এলজিইডির চিঠির তথ্য অনুযায়ী, বেগমগঞ্জ উপজেলার জমিদারহাট থেকে সাহেবেরহাট ও হাসানহাট হয়ে মাইজদী আঞ্চলিক মহাসড়কে ৪৯ দশমিক ০৬ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। সেতুটির নির্মাণকাজ করছে মেসার্স হক ট্রেডার্স।
কৈফিয়ত তলব করা চারজন হলেন নোয়াখালী জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী যুগল কৃষ্ণ মণ্ডল, বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আবুল মনসুর আহমেদ, উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম এবং বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের কার্যসহকারী মো. মহিন উদ্দিন।
তাঁদের পাঠানো চিঠিতে এলজিইডি বলেছে, সেতুর নির্মাণকাজে স্পেসিফিকেশনবহির্ভূত নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণে সরকারি অর্থের অপচয় ও জনস্বার্থ বিঘ্নিত হয়েছে। একই সঙ্গে এতে এলজিইডি তথা সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এলজিইডির চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, কার্যাদেশপ্রাপ্ত ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশ করে অবৈধভাবে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অসদুদ্দেশ্যে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে বলে কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে।
এসব কার্যকলাপ সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) ও ৩(ঘ) বিধি অনুযায়ী অসদাচরণ ও দুর্নীতিপরায়ণতার শামিল এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ কারণে চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে না, তার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। চিঠি পাওয়ার সাত কর্মদিবসের মধ্যে তাঁদের প্রত্যেককে সন্তোষজনক জবাব দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছে এলজিইডি।
ফলে দুই জেলায় সেতু নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে এলজিইডির মোট পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রশাসনিক ব্যবস্থার মুখে পড়েছেন। এর মধ্যে টাঙ্গাইলে একজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং নোয়াখালীতে চারজনের কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হয়েছে। তবে নোয়াখালীর চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এখনো চূড়ান্ত শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত হয়নি; তাঁদের জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।


