দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে আবারও চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। প্রথম দফার চার দিনের রিমান্ড শেষ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে হাজির করে আরও সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছিল গোয়েন্দা পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের তেজগাঁও জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বৃহস্পতিবার গাজী নজরুল ইসলামকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেনের আদালতে হাজির করেন। সেখানে তাঁকে আরও সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম জানান, প্রথম দফায় চার দিনের রিমান্ড শেষে তদন্ত কর্মকর্তা পুনরায় সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছিলেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ৪ মিনিটের দিকে ডিবির একটি সাদা গাড়িতে করে গাজী নজরুল ইসলামকে আদালতে আনা হয়। প্রথমে তাঁকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। পরে রিমান্ড আবেদনের শুনানির জন্য বিচারকের সামনে হাজির করা হয়।
শুনানিতে গাজী নজরুল ইসলামের পক্ষে তাঁর আইনজীবীরা রিমান্ড আবেদন বাতিলের পাশাপাশি জামিন চান। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানায়। শুনানি শেষে বিকেল ৪টা ৪৭ মিনিটে আদালত চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।
এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর ওই রাতেই গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়। মামলায় তাঁদের বিরুদ্ধে মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
মামলা হওয়ার পরদিন শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকার গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলামকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিন এবং মাকছুদা ইসলামকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠান।
ওই দিন রাতেই মামলাটির তদন্তভার শেরেবাংলা নগর থানা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর থেকে ডিবি মামলাটির তদন্ত করছে।
এক দিনের রিমান্ড শেষে ২২ সেপ্টেম্বর মাকছুদা ইসলামকে আবার আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অন্যদিকে গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম দফার চার দিনের রিমান্ড শেষ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার তাঁকে পুনরায় আদালতে হাজির করে ডিবি।
এবারও সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হলেও আদালত চার দিনের অনুমতি দিয়েছেন। ফলে মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় গাজী নজরুল ইসলামকে দুই দফায় মোট আট দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ পেল তদন্তকারী সংস্থা।
এদিকে মামলার তৃতীয় আসামি মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার তাঁকে ঢাকার বাইরে থেকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি–২। পরে আদালতে হাজির করা হলে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনা এবং এর পেছনে কারও প্ররোচনা ছিল কি না, তা এখন তদন্ত করছে গোয়েন্দা পুলিশ। মামলার তিন আসামির মধ্যে গাজী নজরুল ইসলাম দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে, মাকছুদা ইসলাম ও ওবায়দুর রহমান কারাগারে রয়েছেন। তদন্ত শেষে পাওয়া তথ্য ও পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।


